০৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সিংগাইরে স্বপ্ন পূরণে -মাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি ফিরলেন প্রবাসী ছেলে

পিতা মাতার স্বপ্ন ছিল তাদের ছেলে হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন। অবশেষে হেলিকপ্টারে করে বাড়ি ফিরে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন  দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী  ছেলে মো. মহিদুর রহমান।

মো. মহিদুর রহমান  মানিকগঞ্জের সিংগাইর  উপজেলার  জামশা  ইউনিয়নের   উত্তর জামশা গ্রামের  মৃত আজগর আলী  ও হাফেজা খাতুন এর দম্পতির  ছেলে।

মো. মহিদুর রহমান  একা নন  দক্ষিণ  আফ্রিকা  থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর  ঢাকা থেকে  –হাফেজা খাতুন, ছোট ভাই মো. রিয়াজুল ইসলাম, তার দুই সন্তান মো. ইমন ও মো. মাহিমকে  সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে সিংগাইরের  উত্তর জামশা  গ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। হেলিকপ্টারে গ্রামের বাড়ি পৌঁছার পর তাকে

তার নিজ হাতে গড়া পিতা মাতার নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  উত্তর জামশা আজগর আলী , হাফেজা খাতুন মডেল মাদরাসা ও এতিমখানার সভাপতি মো. হাতেম আলীর  নেতৃত্বে ফুল দিয়ে বরণ করেন মাদরাসার শিক্ষক, ছাত্র ও এলাকাবাসী।

১০ জুন (সোমবার) দুপুর ১২ টায় তাদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি উপজেলার  উত্তর জামশা গ্রামের

বশির উদ্দিন ফাউন্ডেশন উচ্চ বিদ্যালয়  মাঠে অবতরণ করে। এমন দৃশ্য দেখে দারুণ খুশি তাদের স্বজন ও গ্রামবাসী।

স্থানীয়রা জানান, জীবিকার তাগিদে গত ১৫ বছর ধরে  দক্ষিণ আফ্রিকা বসবাস করেন মো. মহিদুর রহমান । তার আয়ে সচ্ছল এখন পুরো পরিবার। শুধু তাই নয়, তার সহায়তায় উপকৃত হয়েছেন নিকট আত্মীয়স্বজনসহ এলাকার মানুষ। মো. মহিদুর রহমান  খুবই ভালো মানুষ। সুখে-দুঃখে এলাকার মানুষের পাশে থাকেন।

তার বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল তাদের  ছেলে মো. মহিদুর রহমান  হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন। অবশেষে ছেলে পূরণ করল তাদের সেই আশা। হেলিকপ্টারে করে তার -মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেও তার  মনে একটি দুঃখ ছিল সেটি হল তার পিতা আজগর আলীকে নিয়ে তিনি হেলিকপ্টারে করে বাড়িতে ফিরতে পারলেন না কারণ তার পিতা অনেক আগেই প্রয়াত হয়েছেন।

এদিকে তারা ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে বাড়ি ফিরবেন এমন খবরে সহস্রাধিক মানুষ  উত্তর জামশা বশির উদ্দিন  ফাউন্ডেশন উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ভিড় জমান। গ্রামের মানুষ কখনো হেলিকপ্টার কিভাবে মাটি ছোঁয় তা দেখেননি। হেলিকপ্টার কখনো এত কাছ থেকেও দেখিনি। প্রচণ্ড বাতাসে চারদিকে যেন ভূমিকম্প। সে এক অন্যরকম অনুভূতি পেয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে মো. মহিদুর রহমান  জানান, বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন এটাই তার কাছে বড় পাওয়া। গ্রামের মানুষ হেলিকপ্টার দেখেছেন। তাতেই ভালো লাগছে। সঙ্গে  মা খুশি, এলাকার মানুষ খুশি এবং তিনিও খুশি। মো. মহিদুর রহমান হেলিকপ্টার থেকে নেমে  প্রথমে তার পিতা মাতার নামে গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  উত্তর জামশা আজগর আলী ,হাফেজা খাতুন মডেল মাদরাসা ও এতিমখানায় যান ।  অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ছাত্রদের  খবর নেন এবং মাদরাসায় অনেকটা সময় কাটান। এসময় তার জন্য দোয়ার আয়োজন করা মোনাজাত পরিচালনা করেন মাদরাসার প্রিন্সিপাল  মুফতি  কাওসার আহমেদ। এর তিনি তার শিক্ষা জীবনের মাধ্যমিক স্কুল বশির উদ্দিন ফাউন্ডেশনয়ে যান সেখানে তাকে অত্র বিদ্যালয়রে শিক্ষার্থীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন এবং তিনিও শিক্ষকদের সাথে বিভিন্ন্ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

 

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক “মহামায়া লেক” ভ্রমন গাইড

সিংগাইরে স্বপ্ন পূরণে -মাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি ফিরলেন প্রবাসী ছেলে

প্রকাশ: ০৫:০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪

পিতা মাতার স্বপ্ন ছিল তাদের ছেলে হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন। অবশেষে হেলিকপ্টারে করে বাড়ি ফিরে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন  দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী  ছেলে মো. মহিদুর রহমান।

মো. মহিদুর রহমান  মানিকগঞ্জের সিংগাইর  উপজেলার  জামশা  ইউনিয়নের   উত্তর জামশা গ্রামের  মৃত আজগর আলী  ও হাফেজা খাতুন এর দম্পতির  ছেলে।

মো. মহিদুর রহমান  একা নন  দক্ষিণ  আফ্রিকা  থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর  ঢাকা থেকে  –হাফেজা খাতুন, ছোট ভাই মো. রিয়াজুল ইসলাম, তার দুই সন্তান মো. ইমন ও মো. মাহিমকে  সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে সিংগাইরের  উত্তর জামশা  গ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। হেলিকপ্টারে গ্রামের বাড়ি পৌঁছার পর তাকে

তার নিজ হাতে গড়া পিতা মাতার নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  উত্তর জামশা আজগর আলী , হাফেজা খাতুন মডেল মাদরাসা ও এতিমখানার সভাপতি মো. হাতেম আলীর  নেতৃত্বে ফুল দিয়ে বরণ করেন মাদরাসার শিক্ষক, ছাত্র ও এলাকাবাসী।

১০ জুন (সোমবার) দুপুর ১২ টায় তাদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি উপজেলার  উত্তর জামশা গ্রামের

বশির উদ্দিন ফাউন্ডেশন উচ্চ বিদ্যালয়  মাঠে অবতরণ করে। এমন দৃশ্য দেখে দারুণ খুশি তাদের স্বজন ও গ্রামবাসী।

স্থানীয়রা জানান, জীবিকার তাগিদে গত ১৫ বছর ধরে  দক্ষিণ আফ্রিকা বসবাস করেন মো. মহিদুর রহমান । তার আয়ে সচ্ছল এখন পুরো পরিবার। শুধু তাই নয়, তার সহায়তায় উপকৃত হয়েছেন নিকট আত্মীয়স্বজনসহ এলাকার মানুষ। মো. মহিদুর রহমান  খুবই ভালো মানুষ। সুখে-দুঃখে এলাকার মানুষের পাশে থাকেন।

তার বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল তাদের  ছেলে মো. মহিদুর রহমান  হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন। অবশেষে ছেলে পূরণ করল তাদের সেই আশা। হেলিকপ্টারে করে তার -মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেও তার  মনে একটি দুঃখ ছিল সেটি হল তার পিতা আজগর আলীকে নিয়ে তিনি হেলিকপ্টারে করে বাড়িতে ফিরতে পারলেন না কারণ তার পিতা অনেক আগেই প্রয়াত হয়েছেন।

এদিকে তারা ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে বাড়ি ফিরবেন এমন খবরে সহস্রাধিক মানুষ  উত্তর জামশা বশির উদ্দিন  ফাউন্ডেশন উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ভিড় জমান। গ্রামের মানুষ কখনো হেলিকপ্টার কিভাবে মাটি ছোঁয় তা দেখেননি। হেলিকপ্টার কখনো এত কাছ থেকেও দেখিনি। প্রচণ্ড বাতাসে চারদিকে যেন ভূমিকম্প। সে এক অন্যরকম অনুভূতি পেয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে মো. মহিদুর রহমান  জানান, বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন এটাই তার কাছে বড় পাওয়া। গ্রামের মানুষ হেলিকপ্টার দেখেছেন। তাতেই ভালো লাগছে। সঙ্গে  মা খুশি, এলাকার মানুষ খুশি এবং তিনিও খুশি। মো. মহিদুর রহমান হেলিকপ্টার থেকে নেমে  প্রথমে তার পিতা মাতার নামে গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  উত্তর জামশা আজগর আলী ,হাফেজা খাতুন মডেল মাদরাসা ও এতিমখানায় যান ।  অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ছাত্রদের  খবর নেন এবং মাদরাসায় অনেকটা সময় কাটান। এসময় তার জন্য দোয়ার আয়োজন করা মোনাজাত পরিচালনা করেন মাদরাসার প্রিন্সিপাল  মুফতি  কাওসার আহমেদ। এর তিনি তার শিক্ষা জীবনের মাধ্যমিক স্কুল বশির উদ্দিন ফাউন্ডেশনয়ে যান সেখানে তাকে অত্র বিদ্যালয়রে শিক্ষার্থীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন এবং তিনিও শিক্ষকদের সাথে বিভিন্ন্ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।