০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সাব রেজিস্ট্রার নুরুল আমিন, তার স্ত্রী ও মেয়ে নামের সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নাজিমুদ্দৌলা।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার নূরুল আমিন তালুকদার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। নানা উপায়ে অবৈধ অর্থে কিনেছেন বিলাসবহুল দামি গাড়ি ও একাধিক বহুতল ভবন। স্ত্রী নুরুন্নাহারকে বানিয়েছেন অঢেল সম্পদের মালিক। বুধবার সাব-রেজিস্ট্রার নূরুল আমিন তালুকদার ও তার স্ত্রী এবং মেয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকা, তাদের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদ থাকায় তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব জব্দের রায় দেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ২০২৩ সালের ২৩শে জুলাই টাঙ্গাইল জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের তথ্যমতে, নূরুল আমিনের ৪টি ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ ১ হাজার ১১১ টাকা, স্ত্রীর ১০টি ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৮ টাকা এবং মেয়ে জিনাত তালুকদারের ৪টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ২৪ লাখ ৮২ হাজার ১৩৩ টাকা, সর্বমোট ৫ কোটি ৪১ লাখ ৩৬ হাজার ৬১২ টাকা জব্দ করা হয়।
এ ছাড়াও তার স্ত্রীর ৭৫ শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে, যার বাজার মূল্য ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৭০ হাজার ৯৪০ টাকা এবং মেয়ের নামে ২টি ফ্ল্যাট যার মূল্য ৭৭ লাখ এবং একটি প্রাইভেটকার (টয়োটা) গাড়ি ২৯ লাখসহ মোট ১ কোটি ৬ লাখ টাকা জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।
জানা যায়, নূরুল আমিনের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা ঘারিন্দা এলাকায়। তিনি বর্তমানে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত। এ বিষয়ে নূরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুদকের অনুসন্ধানের কোনো অভিযোগের কপি বা আদালত কর্তৃক আমার স্ত্রী ও মেয়ের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিসহ ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া যদি কোনো অভিযোগ পেয়ে থাকেন তাহলে ওইসব মিথ্যা বলেও জানান তিনি।
এ ব্যপারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. নুর আলম জানান, এসবের বাইরে তার কোনো সম্পদ আছে কিনা তা জানতে চাওয়া হবে। অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক “মহামায়া লেক” ভ্রমন গাইড

সাব রেজিস্ট্রার নুরুল আমিন, তার স্ত্রী ও মেয়ে নামের সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

প্রকাশ: ০৬:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪

টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নাজিমুদ্দৌলা।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার নূরুল আমিন তালুকদার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। নানা উপায়ে অবৈধ অর্থে কিনেছেন বিলাসবহুল দামি গাড়ি ও একাধিক বহুতল ভবন। স্ত্রী নুরুন্নাহারকে বানিয়েছেন অঢেল সম্পদের মালিক। বুধবার সাব-রেজিস্ট্রার নূরুল আমিন তালুকদার ও তার স্ত্রী এবং মেয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকা, তাদের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদ থাকায় তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব জব্দের রায় দেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ২০২৩ সালের ২৩শে জুলাই টাঙ্গাইল জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের তথ্যমতে, নূরুল আমিনের ৪টি ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ ১ হাজার ১১১ টাকা, স্ত্রীর ১০টি ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৮ টাকা এবং মেয়ে জিনাত তালুকদারের ৪টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ২৪ লাখ ৮২ হাজার ১৩৩ টাকা, সর্বমোট ৫ কোটি ৪১ লাখ ৩৬ হাজার ৬১২ টাকা জব্দ করা হয়।
এ ছাড়াও তার স্ত্রীর ৭৫ শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে, যার বাজার মূল্য ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৭০ হাজার ৯৪০ টাকা এবং মেয়ের নামে ২টি ফ্ল্যাট যার মূল্য ৭৭ লাখ এবং একটি প্রাইভেটকার (টয়োটা) গাড়ি ২৯ লাখসহ মোট ১ কোটি ৬ লাখ টাকা জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।
জানা যায়, নূরুল আমিনের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা ঘারিন্দা এলাকায়। তিনি বর্তমানে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত। এ বিষয়ে নূরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুদকের অনুসন্ধানের কোনো অভিযোগের কপি বা আদালত কর্তৃক আমার স্ত্রী ও মেয়ের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিসহ ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া যদি কোনো অভিযোগ পেয়ে থাকেন তাহলে ওইসব মিথ্যা বলেও জানান তিনি।
এ ব্যপারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. নুর আলম জানান, এসবের বাইরে তার কোনো সম্পদ আছে কিনা তা জানতে চাওয়া হবে। অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।