০৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা মুখ ও মুখোশ

  • অরকো আয়মান
  • প্রকাশ: ০৫:৪৯:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০২৪
  • ২৫ জন পরেছে

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনকাম করা সিনেমার কথা সবাই জানে। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের সর্বচ্চ ইনকাম করা সিনেমা বেদের মেয়ে জোসনা। কিন্তু ২০২৩ সালে হিমেল আশরাফ পরিচালিত সিনেমা প্রিয়তমা এসে ভেঙে দিয়ে সর্বোচ্চ ইনকাম করে। এগুলোত পুরান কথা। তাহলে আজকে পুরানটাকেই নতুন করে উপস্থাপন করি। বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা কোনটি?

মুখ ও মুখোশ বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) প্রথম স্থানীয়ভাবে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র। ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি পরিচালনা করেন আব্দুল জব্বার খান। ইকবাল ফিল্মস্‌ এই ছবিটি অর্থায়ন ও চিত্রায়নে সহায়তা করে। চলচ্চিত্রটির প্রথম প্রদর্শনী হয় মুকুল টকিজে (বর্তমান আজাদ প্রেক্ষাগৃহ)। এটি ঢাকার রূপমহল, চট্টগ্রামের নিরালা, নারায়ণগঞ্জের ডায়মন্ড ও খুলনার উল্লাসিনী প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পায়। সেই অঞ্চলের প্রথম চলচ্চিত্র হিসাবে দর্শকমহলে এটি নিয়ে আগ্রহের সৃষ্টি হয়। চলচ্চিত্রটি প্রথম দফায় মুক্তির পর ৪৮,০০০ রুপি আয় করে।

আবদুল জব্বার ছবিটির জন্য নারী চরিত্রের জন্য চিত্রালী পত্রিকায় একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। ইডেন কলেজের ছাত্রী পেয়ারী বেগম নাজমা (মৃত্যু ২০২৩), এবং তার বন্ধু জহরত আরা (মৃত্যু ২০২১), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং মুসলেহউদ্দিনের বোন, ইকবাল ফিল্মসের ঢাকার নবাব কাটরায় অফিসে গিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তারা দুজনেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। যেহেতু ১৯৫০-এর দশকে নারী অভিনেতাদের অভাব ছিল, তাই খান প্রাথমিকভাবে চলচ্চিত্রের জন্য একজন পুরুষকে নারীর পোশাকে রাখার কথা ভাবতেন যা সেই সময়ে মঞ্চ নাটকে একটি সাধারণ অভ্যাস ছিল। খানও কলিম শরাফীর কাছে যান এবং তার তৎকালীন স্ত্রী কামেলা শরাফিকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার জন্য কিন্তু তারা প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এদিকে ছবির গানগুলো কেমন হবে এবং কাকে দিয়ে গানগুলো লেখাবেন, তা নিয়ে ছবির পরিচালক খানিকটা চিন্তিতই ছিলেন। তখন হঠাৎই তিনি তাঁর বন্ধুবর এম, এ, গফুর (সারথী) কে অনুরোধ করলেন এই ছবির গানগুলো লিখার জন্য। সারথীও এ সুযোগ লুফে নিলেন। এই ছবির সব গানের কথা লিখেছেন এম, এ, গফুর (সারথী)।

অভিনেতা ইনাম আহমেদ ছবিটির প্রধান চরিত্রে উপস্থিত ছিলেন এবং খান নিজেই দ্বিতীয় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। প্রধান অভিনেত্রী পূর্ণিমা সেনগুপ্তা চট্টগ্রামের পাথরঘাটা থেকে অভিনয় করেছিলেন।

  • ইনাম আহমেদ – মুখ্য পুরুষ চরিত্র
  • আব্দুল জব্বার খান – দ্বিতীয় প্রধান পুরুষ চরিত্র
  • পূর্ণিমা সেন – প্রধান নারী চরিত্র
  • জহরত আরা। (তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ছাত্রী )
  • পিয়ারী বেগম। (তখন ইডেন কলেজের ছাত্রী)
  • রহিমা খাতুন।
  • বিলকিস বারী।
  • আমিনুল হক। (তখন ঢাকা বেতার কেন্দ্র-এ চাকুরীরত)
  • কাজী সিকান্দার। (দারোগার চরিত্র)
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক “মহামায়া লেক” ভ্রমন গাইড

বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা মুখ ও মুখোশ

প্রকাশ: ০৫:৪৯:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০২৪

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনকাম করা সিনেমার কথা সবাই জানে। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের সর্বচ্চ ইনকাম করা সিনেমা বেদের মেয়ে জোসনা। কিন্তু ২০২৩ সালে হিমেল আশরাফ পরিচালিত সিনেমা প্রিয়তমা এসে ভেঙে দিয়ে সর্বোচ্চ ইনকাম করে। এগুলোত পুরান কথা। তাহলে আজকে পুরানটাকেই নতুন করে উপস্থাপন করি। বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা কোনটি?

মুখ ও মুখোশ বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) প্রথম স্থানীয়ভাবে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র। ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি পরিচালনা করেন আব্দুল জব্বার খান। ইকবাল ফিল্মস্‌ এই ছবিটি অর্থায়ন ও চিত্রায়নে সহায়তা করে। চলচ্চিত্রটির প্রথম প্রদর্শনী হয় মুকুল টকিজে (বর্তমান আজাদ প্রেক্ষাগৃহ)। এটি ঢাকার রূপমহল, চট্টগ্রামের নিরালা, নারায়ণগঞ্জের ডায়মন্ড ও খুলনার উল্লাসিনী প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পায়। সেই অঞ্চলের প্রথম চলচ্চিত্র হিসাবে দর্শকমহলে এটি নিয়ে আগ্রহের সৃষ্টি হয়। চলচ্চিত্রটি প্রথম দফায় মুক্তির পর ৪৮,০০০ রুপি আয় করে।

আবদুল জব্বার ছবিটির জন্য নারী চরিত্রের জন্য চিত্রালী পত্রিকায় একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। ইডেন কলেজের ছাত্রী পেয়ারী বেগম নাজমা (মৃত্যু ২০২৩), এবং তার বন্ধু জহরত আরা (মৃত্যু ২০২১), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং মুসলেহউদ্দিনের বোন, ইকবাল ফিল্মসের ঢাকার নবাব কাটরায় অফিসে গিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তারা দুজনেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। যেহেতু ১৯৫০-এর দশকে নারী অভিনেতাদের অভাব ছিল, তাই খান প্রাথমিকভাবে চলচ্চিত্রের জন্য একজন পুরুষকে নারীর পোশাকে রাখার কথা ভাবতেন যা সেই সময়ে মঞ্চ নাটকে একটি সাধারণ অভ্যাস ছিল। খানও কলিম শরাফীর কাছে যান এবং তার তৎকালীন স্ত্রী কামেলা শরাফিকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার জন্য কিন্তু তারা প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এদিকে ছবির গানগুলো কেমন হবে এবং কাকে দিয়ে গানগুলো লেখাবেন, তা নিয়ে ছবির পরিচালক খানিকটা চিন্তিতই ছিলেন। তখন হঠাৎই তিনি তাঁর বন্ধুবর এম, এ, গফুর (সারথী) কে অনুরোধ করলেন এই ছবির গানগুলো লিখার জন্য। সারথীও এ সুযোগ লুফে নিলেন। এই ছবির সব গানের কথা লিখেছেন এম, এ, গফুর (সারথী)।

অভিনেতা ইনাম আহমেদ ছবিটির প্রধান চরিত্রে উপস্থিত ছিলেন এবং খান নিজেই দ্বিতীয় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। প্রধান অভিনেত্রী পূর্ণিমা সেনগুপ্তা চট্টগ্রামের পাথরঘাটা থেকে অভিনয় করেছিলেন।

  • ইনাম আহমেদ – মুখ্য পুরুষ চরিত্র
  • আব্দুল জব্বার খান – দ্বিতীয় প্রধান পুরুষ চরিত্র
  • পূর্ণিমা সেন – প্রধান নারী চরিত্র
  • জহরত আরা। (তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ছাত্রী )
  • পিয়ারী বেগম। (তখন ইডেন কলেজের ছাত্রী)
  • রহিমা খাতুন।
  • বিলকিস বারী।
  • আমিনুল হক। (তখন ঢাকা বেতার কেন্দ্র-এ চাকুরীরত)
  • কাজী সিকান্দার। (দারোগার চরিত্র)