০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশিদের ৭০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ দেশে

নিজ দেশ থেকে অন্য দেশে গোপনে অর্থ জমা রাখার সুযোগ রয়েছে যেসব দেশে, সেগুলোর পরিচিতি ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ হিসেবে। লুক্সেমবার্গ, কেম্যান আইল্যান্ড, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড কিংবা বারমুডার মতো বিভিন্ন দেশে অর্থের উৎস জানানোর ঝামেলা নেই; করের হিসাব-নিকাশও নেই। এ ধরনের ট্যাক্স হেভেন দেশে বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দিয়েই ডলার বা সম্পদ ক্রয় করতে পারেন। আর ওই সম্পদকে বলা হয় অফশোর সম্পদ।

 

গত বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায় দুবাইয়ের শত শত বাংলাদেশির রয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ। এবার জানা গেলে শুধু দুবাই নয়, আর অনেক দেশে বাংলাদেশিদের সম্পদ রয়েছে। ইউরোপীয় ইইনিয়ন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে শুধুমাত্রা ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ দেশে বাংলাদেশিদের ৭০ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকংসহ আরও অনেক দেশে বাংলাদেশিদের সম্পদ রয়েছে।

ইইউরোর প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ট্যাক্স হ্যাভেন নামে পরিচিত দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের সম্পদ রয়েছে ৫৯১ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। এটি বাংলাদেশের মোট জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এসব অর্থের একটি অংশ ব্যয় হয়েছে আবাসন খাতে। এই খাতে ব্যয় প্রায় ৬৬ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা। লন্ডন, প্যারিস, দুবাইয়ের মতো বিভিন্ন শহরে কেনা হয়েছে এসব সম্পদ। তবে প্রতিবেদনে সম্পদের মালিকদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।এতিকে ট্যাক্স হ্যাভেন হিসেবে পরিচিত দেশগুলোতে ২০২২ সালে কী পরিমাণ অফশোর সম্পদ রয়েছে, এর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ ট্যাক্স অবজারভেটরি প্রকাশিত অ্যাটলাস অব অফশোর ওয়ার্ল্ড নামের ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেখানে থাকা বাংলাদেশিদের সম্পদের পরিমাণও।এদিকে, এসব অর্থের উৎস খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।এ প্রসঙ্গে অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আইনুল ইসলাম জানান, টাকা পাচার থেকে শুরু করে দেশে আয় করা অবৈধ টাকা সেখানে নিয়ে যাওয়াকে কেউ কেউ বেশি নিরাপদ মনে করে। এছাড়া তারা ভাবে এটিতে লাভও বেশি। এমনটি দেশের অর্থনীতির জন্য মোটেও সুখকর নয়। তাদের কারণে দেশের টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হতে হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক “মহামায়া লেক” ভ্রমন গাইড

বাংলাদেশিদের ৭০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ দেশে

প্রকাশ: ০৫:৪৮:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

নিজ দেশ থেকে অন্য দেশে গোপনে অর্থ জমা রাখার সুযোগ রয়েছে যেসব দেশে, সেগুলোর পরিচিতি ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ হিসেবে। লুক্সেমবার্গ, কেম্যান আইল্যান্ড, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড কিংবা বারমুডার মতো বিভিন্ন দেশে অর্থের উৎস জানানোর ঝামেলা নেই; করের হিসাব-নিকাশও নেই। এ ধরনের ট্যাক্স হেভেন দেশে বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দিয়েই ডলার বা সম্পদ ক্রয় করতে পারেন। আর ওই সম্পদকে বলা হয় অফশোর সম্পদ।

 

গত বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায় দুবাইয়ের শত শত বাংলাদেশির রয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ। এবার জানা গেলে শুধু দুবাই নয়, আর অনেক দেশে বাংলাদেশিদের সম্পদ রয়েছে। ইউরোপীয় ইইনিয়ন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে শুধুমাত্রা ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ দেশে বাংলাদেশিদের ৭০ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকংসহ আরও অনেক দেশে বাংলাদেশিদের সম্পদ রয়েছে।

ইইউরোর প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ট্যাক্স হ্যাভেন নামে পরিচিত দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের সম্পদ রয়েছে ৫৯১ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। এটি বাংলাদেশের মোট জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এসব অর্থের একটি অংশ ব্যয় হয়েছে আবাসন খাতে। এই খাতে ব্যয় প্রায় ৬৬ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা। লন্ডন, প্যারিস, দুবাইয়ের মতো বিভিন্ন শহরে কেনা হয়েছে এসব সম্পদ। তবে প্রতিবেদনে সম্পদের মালিকদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।এতিকে ট্যাক্স হ্যাভেন হিসেবে পরিচিত দেশগুলোতে ২০২২ সালে কী পরিমাণ অফশোর সম্পদ রয়েছে, এর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ ট্যাক্স অবজারভেটরি প্রকাশিত অ্যাটলাস অব অফশোর ওয়ার্ল্ড নামের ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেখানে থাকা বাংলাদেশিদের সম্পদের পরিমাণও।এদিকে, এসব অর্থের উৎস খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।এ প্রসঙ্গে অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আইনুল ইসলাম জানান, টাকা পাচার থেকে শুরু করে দেশে আয় করা অবৈধ টাকা সেখানে নিয়ে যাওয়াকে কেউ কেউ বেশি নিরাপদ মনে করে। এছাড়া তারা ভাবে এটিতে লাভও বেশি। এমনটি দেশের অর্থনীতির জন্য মোটেও সুখকর নয়। তাদের কারণে দেশের টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হতে হবে।