০৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নবাবগঞ্জে নির্মিণ কাজে নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায়, সকল শ্রেণির মানুষের মানববন্ধন

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার  সদর কায়কোবাদ চৌরাস্তা থেকে নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ইছামতী নদী পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির পাশ দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে নির্মিত ড্রেনেজ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান  এই অভিযোগে

২২ (মে) বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার প্রাণকেন্দ্র কায়কোবাদ চৌরাস্তা সংলগ্ন সড়কে ঘণ্টাব্যাপী দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ।   পাশাপাশি কাজের ধীরগতির অভিযোগও  তোলেন তারা। তারা জানান, এ রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নানা প্রয়োজনে চলাচল করে। এ সড়কটি সামান্য বৃষ্টি হলেই এ রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এতে করে সড়কটিতে চলাচলে হাঁটুপানি জমে চলাচলের ব্যাঘাত ঘটে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ কাজের জন্য এলজিইডি’র আওতায় প্রায় ৫৬ লাখ টাকার টেন্ডার হয়। কাজের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

গত বছর ৫ই নভেম্বর শুরু হয়ে কাজটি আগামী মাসের ৫ তারিখের মধ্যে শেষ করার কথা।

 

তবে এখনো সিংহভাগ কাজ বাকি রয়েছে।  সরজমিন দেখা যায়, কাজের অনেক ধীরগতি এবং অনেক নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চলছে। ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদারের গাফিলতি রয়েছে এবং খুবই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছেন। যেহেতু জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য এ উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। তাই কাজটি যাতে দ্রুত ও টেকসই হয় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। নবাবগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, জনগণের জন্য সরকার লাখ লাখ টাকা ব্যয় করছে। অথচ ঠিকাদার তার লাভের জন্য নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছে। আমি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে  বলবো এসব নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ড্রেনেজ কাজ করা যাবে না। এসব বন্ধ করা হোক। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ কাজের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ভালোমানের সামগ্রী দিয়ে টেকসই কাজ করার জন্য ঠিকাদারের প্রতি দাবি জানান। এ ব্যাপারে মোহাম্মদ ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধীকারী মো. হৃদয় জানান, আমি বিশেষ কারণে কাজের স্থলে যেতে পারিনি অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়েছি। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে থাকলে তা চেঞ্জ করে  দেবো। ড্রেনেজ কাজে একটু সময় লাগে। নাহলে কাজটি টেকসই হয় না। উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার হক চৌধুরী বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছে এমন অভিযোগ স্থানীয়রা আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। আমি তাৎক্ষণিকভাবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান ফকিরকে কাজের স্থলে পাঠিয়েছিলাম। নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক “মহামায়া লেক” ভ্রমন গাইড

নবাবগঞ্জে নির্মিণ কাজে নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায়, সকল শ্রেণির মানুষের মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৪:০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার  সদর কায়কোবাদ চৌরাস্তা থেকে নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ইছামতী নদী পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির পাশ দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে নির্মিত ড্রেনেজ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান  এই অভিযোগে

২২ (মে) বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার প্রাণকেন্দ্র কায়কোবাদ চৌরাস্তা সংলগ্ন সড়কে ঘণ্টাব্যাপী দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ।   পাশাপাশি কাজের ধীরগতির অভিযোগও  তোলেন তারা। তারা জানান, এ রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নানা প্রয়োজনে চলাচল করে। এ সড়কটি সামান্য বৃষ্টি হলেই এ রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এতে করে সড়কটিতে চলাচলে হাঁটুপানি জমে চলাচলের ব্যাঘাত ঘটে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ কাজের জন্য এলজিইডি’র আওতায় প্রায় ৫৬ লাখ টাকার টেন্ডার হয়। কাজের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

গত বছর ৫ই নভেম্বর শুরু হয়ে কাজটি আগামী মাসের ৫ তারিখের মধ্যে শেষ করার কথা।

 

তবে এখনো সিংহভাগ কাজ বাকি রয়েছে।  সরজমিন দেখা যায়, কাজের অনেক ধীরগতি এবং অনেক নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চলছে। ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদারের গাফিলতি রয়েছে এবং খুবই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছেন। যেহেতু জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য এ উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। তাই কাজটি যাতে দ্রুত ও টেকসই হয় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। নবাবগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, জনগণের জন্য সরকার লাখ লাখ টাকা ব্যয় করছে। অথচ ঠিকাদার তার লাভের জন্য নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছে। আমি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে  বলবো এসব নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ড্রেনেজ কাজ করা যাবে না। এসব বন্ধ করা হোক। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ কাজের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ভালোমানের সামগ্রী দিয়ে টেকসই কাজ করার জন্য ঠিকাদারের প্রতি দাবি জানান। এ ব্যাপারে মোহাম্মদ ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধীকারী মো. হৃদয় জানান, আমি বিশেষ কারণে কাজের স্থলে যেতে পারিনি অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়েছি। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে থাকলে তা চেঞ্জ করে  দেবো। ড্রেনেজ কাজে একটু সময় লাগে। নাহলে কাজটি টেকসই হয় না। উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার হক চৌধুরী বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছে এমন অভিযোগ স্থানীয়রা আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। আমি তাৎক্ষণিকভাবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান ফকিরকে কাজের স্থলে পাঠিয়েছিলাম। নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।