০৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অবশেষে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম‘ সাময়িক বরখাস্ত‘

, সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় এক সাপ্তাহের বেশি জেলহাজতে থাকেন ঢাকার  জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম। তিনি কারা  কারাবন্দি থাকলেও তা গোপন করে প্রথমে তিন দিন নৈমিত্তিক ছুটি, পরে অফিসে ‘অনুপস্থিত’ দেখিয়েও শেষ রক্ষা হলো না ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলামের। অবশেষে নিবন্ধন অধিদপ্তরের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকার জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় এবং তাকে হাজতে প্রেরণ করায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৯-এর উপধারা ২ অনুযায়ী চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। কারাহাজতে প্রেরণের দিন থেকে (৩০ এপ্রিল) এ আদেশ কার্যকর হবে। সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি নিবন্ধন অধিদপ্তরে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

জানা গেছে, দুদকের মামলায় কারাবন্দি হওয়ার পরও বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর আইনজীবী বান্ধবীকে দিয়ে কোটি টাকার চুক্তিতে দ্রুত জামিনে বেরিয়ে স্বপদে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন অহিদুল ইসলাম। যুগান্তরে ‘দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল : স্বপদে ফিরতে অফিস নথিতে অনুপস্থিত’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার এ পরিকল্পনা ফাঁস হলে তোলপাড় শুরু হয়। চাপে পড়েন এক সপ্তাহ ধরে অহিদুলের কারাবন্দি থাকার বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রাখা কর্মকর্তারা। তখন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে অহিদুল ইসলামের কারাবন্দি থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিবন্ধন অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এ নিয়ে গত শুক্রবার ‘অবশেষে কর্তাদের ঘুম ভাঙলো : অহিদুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি’ শিরোনামে ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুগান্তর। এরপর রোববার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।

প্রসঙ্গত, সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে ৯ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। গত ৩০ এপ্রিল এই চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি ছিল। শুনানিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আসামি অহিদুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে জামিনে তিনি কারামুক্ত হয়েছেন।

 

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পারফেক্ট ফুটওয়্যার লিমিটেডের বার্ষিক ডিলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত

অবশেষে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম‘ সাময়িক বরখাস্ত‘

প্রকাশ: ০৩:১৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪

, সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় এক সাপ্তাহের বেশি জেলহাজতে থাকেন ঢাকার  জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম। তিনি কারা  কারাবন্দি থাকলেও তা গোপন করে প্রথমে তিন দিন নৈমিত্তিক ছুটি, পরে অফিসে ‘অনুপস্থিত’ দেখিয়েও শেষ রক্ষা হলো না ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলামের। অবশেষে নিবন্ধন অধিদপ্তরের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকার জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় এবং তাকে হাজতে প্রেরণ করায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৯-এর উপধারা ২ অনুযায়ী চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। কারাহাজতে প্রেরণের দিন থেকে (৩০ এপ্রিল) এ আদেশ কার্যকর হবে। সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি নিবন্ধন অধিদপ্তরে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

জানা গেছে, দুদকের মামলায় কারাবন্দি হওয়ার পরও বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর আইনজীবী বান্ধবীকে দিয়ে কোটি টাকার চুক্তিতে দ্রুত জামিনে বেরিয়ে স্বপদে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন অহিদুল ইসলাম। যুগান্তরে ‘দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল : স্বপদে ফিরতে অফিস নথিতে অনুপস্থিত’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার এ পরিকল্পনা ফাঁস হলে তোলপাড় শুরু হয়। চাপে পড়েন এক সপ্তাহ ধরে অহিদুলের কারাবন্দি থাকার বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রাখা কর্মকর্তারা। তখন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে অহিদুল ইসলামের কারাবন্দি থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিবন্ধন অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এ নিয়ে গত শুক্রবার ‘অবশেষে কর্তাদের ঘুম ভাঙলো : অহিদুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি’ শিরোনামে ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুগান্তর। এরপর রোববার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।

প্রসঙ্গত, সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে ৯ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। গত ৩০ এপ্রিল এই চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি ছিল। শুনানিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আসামি অহিদুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে জামিনে তিনি কারামুক্ত হয়েছেন।